কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১৮ শিক্ষক-কর্মচারীর ছয় মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে সুপারিনটেনডেন্ট (সুপার) মো. সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী মো. শফিয়ার রহমানকে পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন সহকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত মাদ্রাসার কার্যালয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় মাদ্রাসার সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাঁরা ‘ছয় মাস ধরে বেতন নাই, বেতন চাই, বেতন চাই’ বলে স্লোগান দেন।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, সুপারের কারণে সৃষ্ট প্রশাসনিক জটিলতায় ছয় মাস ধরে তাঁরা বেতন পাচ্ছেন না। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সুপারের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. ইমরুল কায়েস মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা শিক্ষক। মানুষ আমাদের কাছে আরও ভদ্র আচরণ প্রত্যাশা করে। কিন্তু পেটের দায়ে সুপার স্যার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করতে হয়েছে। ছয় মাস ধরে বেতন বন্ধ। আমরা বাজারে যেতে পারি না। আমাদের সংসার কীভাবে চলে? আমরা সুপার স্যারের অধীনে চাকরি করি। তিনি কীভাবে সমস্যার সমাধান করবেন, সেটা তাঁর বিষয়।’
খবর পেয়ে বেলা ৩টার দিকে মাদ্রাসার সভাপতি ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রভাষক মো. শহিদুল ইসলাম আকন্দ পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে তিনি অবরুদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করেন এবং বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মাদ্রাসার সুপার মো. সাইদুর রহমান তাঁর চাচাতো ভাই ও অফিস সহকারী মো. শফিয়ার রহমানকে শিক্ষক হিসেবে পদায়ন দেখান। এ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। পরে অফিস সহকারী পদে বহাল থাকার দাবিতে শফিয়ার রহমান আদালতে মামলা করেন। প্রায় এক বছর আগে করা মামলাটি এখনো চলমান। পদবি-সংক্রান্ত জটিলতার নিষ্পত্তি না হওয়ায় ছয় মাস ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সুপার মো. সাইদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, অফিস সহকারী মো. শফিয়ার রহমানের পদবি পরিবর্তন করে তাঁকে ইবতেদায়ি শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ ভুল সংশোধনের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষে (এনটিআরসিএ) কাজ চলছে। পদবি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বেতন নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা নিতে রাজি না হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। সোমবার সকালে দায়িত্ব পালন করতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়।
সহকারী শিক্ষক মো. আতাউর রহমান বলেন, সুপার অফিস সহকারীকে ইবতেদায়ি শিক্ষক হিসেবে পদায়ন করায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউ বেতন পাচ্ছেন না। তাঁরা দ্রুত সমস্যার সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান। সুপারের কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁরা কেন বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৮৫ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে ২১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৮। এর আগে গত ২৩ জুলাই এনটিআরসিএর নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, মাদ্রাসার সুপারকে অবরুদ্ধ করার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা সমাধানে মাদ্রাসার সভাপতিকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস