দৈনিক নয়া দিগন্তের বগুড়া অফিস ইনচার্জ, বার্তা সংস্থা ইউএনবির জেলা প্রতিনিধি ও বগুড়া প্রেসক্লাবের একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক কোষাধ্যক্ষ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ (৫২) আর নেই। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সোমবার বাদ জোহর বগুড়ার বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া মহানগর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল। পরে তাঁকে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী ভাই পাগলার মাজার গোরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় অংশ নেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু ও সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য মির্জা সেলিম রেজা, বগুড়া প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান নেতারা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বগুড়ার সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে আসে। সোমবার ভোর থেকেই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা বাসভবনে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর শাখার আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল ও সেক্রেটারি অধ্যাপক আ.স.ম. আব্দুল মালেকও তাঁর বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আবুল কালাম আজাদ বগুড়ার গণমাধ্যম অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাতমাথা পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা। পরে তিনি দৈনিক আজ ও আগামীকাল এবং দৈনিক উত্তর কোণ পত্রিকায় কাজ করেন। দীর্ঘদিন দৈনিক সংগ্রামের বগুড়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনের বগুড়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তের বগুড়া অফিস ইনচার্জ ও ইউএনবির জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার জ্যেষ্ঠ সদস্য ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ভিপি সাইফুল ইসলাম, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু ও সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।
শোক প্রকাশকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া, বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি, বগুড়া স্পোর্টস রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বগুড়া ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বগুড়া টেলিভিশন ভিডিও জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখা।
শোকবার্তায় নেতারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এই বাংলা/এমএস