রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব প্রমাণের পরও শিশুকে স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে রায়হান সরকার জয়ের বিরুদ্ধে। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় সন্তানের পিতৃত্ব প্রমাণিত হলেও শিশুটিকে স্বীকৃতি ও ভরণপোষণ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযুক্ত রায়হান সরকার জয় উপজেলার ৩ নম্বর নিতাই ইউনিয়নের পানিয়াল পুকুর মোল্লাপাড়া এলাকার জাকারিয়া সরকারের ছেলে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে রায়হান সরকার জয়কে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এরপরও প্রায় এক বছর ধরে তিনি শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।

শিশুটির মায়ের দাবি, জন্মনিবন্ধন না থাকায় তার সন্তান প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও টিকা গ্রহণেও সমস্যার মুখে পড়ছে। সন্তানের পিতৃপরিচয় ও ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ভুক্তভোগীর মা তহমিনা বেগম। বর্তমানে ভুক্তভোগীর কোলে রয়েছে প্রায় দুই বছর বয়সী একটি কন্যাশিশু।

ভুক্তভোগী সিমরান জাহান (ছদ্মনাম) বলেন, “ডিএনএ রিপোর্টে পিতৃত্ব প্রমাণিত হওয়ার পরও প্রায় এক বছর ধরে অভিযুক্ত আমার সন্তানকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। আমি সন্তানের পিতৃপরিচয় ও ভরণপোষণের অধিকার চাই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সন্তান জন্মের পর আর্থিক সংকটের কারণে শিশুর জন্য দুধ কিনতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। একপর্যায়ে অর্থের অভাবে রক্ত বিক্রি করেও শিশুর দুধের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এমনকি দীর্ঘ সময় দুধের পরিবর্তে পানি খাওয়ানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম মোস্তফা সজীব বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা শিশুটির ভবিষ্যৎ, পিতৃপরিচয় ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর