সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই হিপ নষ্ট, তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে বিছানায় অসহায় আনোয়ার

পিরোজপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাবাকে আগেই হারিয়েছেন। আর দুই মাস আগে চিরতরে হারিয়েছেন মাকেও। মাত্র তিন বছরের একমাত্র সন্তানকে বুকে আগলে এখন বিছানায় দিন কাটছে মো. আনোয়ার হোসেনের। দুই হিপের জয়েন্ট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পেরে ক্রমেই অসহায় হয়ে পড়েছেন এই তরুণ বাবা।

পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাড়িপাড়া বটতলা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। একসময় একটি কোম্পানিতে চাকরি করে নিজের ও পরিবারের খরচ চালাতেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তাঁর আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিল সংসার।

কিন্তু অসুস্থতা ও চিকিৎসার ব্যয় তাঁর জীবনকে বদলে দিয়েছে। নিজের ও মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে ভিটেমাটি ও সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে দুই মাস আগে মায়ের মৃত্যু হলে আরও অসহায় হয়ে পড়েন আনোয়ার।

বর্তমানে দুই হিপের সমস্যা এতটাই গুরুতর যে তাঁর দুই পা শুকিয়ে চিকন হয়ে গেছে এবং তিনি বিছানা থেকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। তিন বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার অপেক্ষায় দিন কাটছে তাঁর।

আনোয়ার হোসেনের অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে যান ‘কদমতলা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিনিধি দল এবং ‘ভাই বন্ধু ব্লাড ডোনার্স যুব ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি ও সংগঠনের সদস্যরা। তাঁরা আনোয়ারের শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি দেখেন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আনোয়ারের দুই হিপে অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন। প্রতিটি অস্ত্রোপচারে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে সর্বস্ব হারিয়ে এই বিপুল অর্থের চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য তাঁর পরিবারের নেই।

এ অবস্থায় আনোয়ারের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাঁদের আহ্বান, সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার মাধ্যমে আনোয়ারের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানো হোক।

সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা

আনোয়ার হোসেনের চিকিৎসায় সহায়তা পাঠাতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর:

বিকাশ/নগদ/রকেট: ০১৭১৪-৯৪৭৭৫৭ (পার্সোনাল)

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট-বড় যেকোনো সহযোগিতা আনোয়ারের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে সহায়তা করতে পারে। তিন বছরের শিশুটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বাগেরহাটে র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বক্তারা নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে সঠিক তথ্য দ্রুত প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসন, বাগেরহাটের আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), বাগেরহাটের সহযোগিতায় এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র‍্যালি বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য ও তথ্য অধিকার বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. মোত্তালেব হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সনাক সদস্য অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় মূল বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনা করেন সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম টুকু। এ ছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাগুফতা হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু রাসেল, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মঈনুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন মল্লিক, অ্যাডভোকেট এস এম মাহবুব মোর্শেদ লালন, পিপি বাগেরহাট, প্রেসক্লাব প্রতিনিধি ইয়ামিন আলী এবং শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, জনস্বার্থে প্রণীত আইনগুলোর মধ্যে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অন্যতম। নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্যের অবাধ প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে হয়। তথ্য অধিকার আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা কমানো প্রয়োজন।

আলোচনায় গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের মতে, যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তাই অপতথ্য মোকাবিলায় তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দ্রুত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সভায় তথ্য কমিশন দীর্ঘদিন পুনর্গঠিত না হওয়ায় নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “সর্বসাধারণের তথ্য-উপাত্তে প্রবেশাধিকার ও তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যই শক্তি। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে অপতথ্য প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ইউপি সেবা অ্যাপ চালু করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রকল্পের ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাগেরহাটে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধান, সাংবাদিক, সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এই বাংলা/এমএস

বাগেরহাটে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত