সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাঁশখালীতে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্সের আঞ্চলিক কর্মী সম্মেলন ও মৃত্যু দাবির চেক হস্তান্তর

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স পিএলসির বাঁশখালী জোনাল অফিসের উদ্যোগে আঞ্চলিক কর্মী সম্মেলন ও মৃত্যু দাবির চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাঁশখালী জোনাল অফিসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গুনাগরি সাংগঠনিক অফিসের জিএম ও ইনচার্জ এম সোহেল হাসান রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স পিএলসির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা রোটারিয়ান মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমডি ও চট্টগ্রাম জোনাল হেডকোয়ার্টারের ইনচার্জ আনিছুল হক আনিছ, এএমডি মো. আনোয়ারুল ইসলাম ভূট্টো, এসইভিপি ও বাঁশখালী জোনাল অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাবুল সিকদার এবং এসইভিপি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঁশখালী জোনাল অফিসের এএমডি ও ইনচার্জ প্রফেসর জাকের আহমদ।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে কয়েকজন মৃত গ্রাহকের নমিনিদের হাতে মৃত্যু দাবির চেক হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে মোহাম্মদ মঞ্জুর আলমের নমিনি স্বপ্না বেগমকে ৭ লাখ ১২ হাজার ৫৭৭ টাকা, মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের নমিনি রুনা আক্তারকে ২ লাখ টাকা, মোহাম্মদ আব্দুল মালেকের নমিনি আব্দুল হামিদকে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫১ টাকা, মোহাম্মদ নন্না মিয়ার নমিনি খুরশিদা বেগমকে ৫৭ হাজার ১৯৫ টাকা, কাসফিয়া সোলতানাকে ২৩ হাজার ৬২ টাকা এবং রাকিব হোছাইনকে ২৩ হাজার ৬৩ টাকার চেক দেওয়া হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে মোট ১১ লাখ ৩৬ হাজার ২৪৮ টাকা মৃত্যু দাবি বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে।

চেক হস্তান্তরের সময় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাঁশখালী জোনাল অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক কর্মী সম্মেলনের পাশাপাশি গ্রাহকদের মৃত্যু দাবি নিষ্পত্তির অর্থ হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে বীমা দাবির অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় বলে আয়োজকরা জানান।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বাগেরহাটে র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বক্তারা নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে সঠিক তথ্য দ্রুত প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসন, বাগেরহাটের আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), বাগেরহাটের সহযোগিতায় এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র‍্যালি বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য ও তথ্য অধিকার বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. মোত্তালেব হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সনাক সদস্য অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় মূল বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনা করেন সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম টুকু। এ ছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাগুফতা হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু রাসেল, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মঈনুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন মল্লিক, অ্যাডভোকেট এস এম মাহবুব মোর্শেদ লালন, পিপি বাগেরহাট, প্রেসক্লাব প্রতিনিধি ইয়ামিন আলী এবং শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, জনস্বার্থে প্রণীত আইনগুলোর মধ্যে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অন্যতম। নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্যের অবাধ প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে হয়। তথ্য অধিকার আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা কমানো প্রয়োজন।

আলোচনায় গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের মতে, যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তাই অপতথ্য মোকাবিলায় তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দ্রুত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সভায় তথ্য কমিশন দীর্ঘদিন পুনর্গঠিত না হওয়ায় নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “সর্বসাধারণের তথ্য-উপাত্তে প্রবেশাধিকার ও তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যই শক্তি। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে অপতথ্য প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ইউপি সেবা অ্যাপ চালু করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রকল্পের ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাগেরহাটে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধান, সাংবাদিক, সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এই বাংলা/এমএস

বাগেরহাটে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত