জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিঙিয়ে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রজ্ঞাপন ও বিধিমালা অনুসরণ না করে রাজধানীর টি অ্যান্ড টি কলেজে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক জুনিয়র এক সহকারী অধ্যাপককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কলেজের শিক্ষক জ্যেষ্ঠতার তালিকা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট পত্র পর্যালোচনায় এ নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে টি অ্যান্ড টি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদিকা বেগমকে কলেজের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে ওই চিঠিতেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৭১তম সভার সিদ্ধান্ত এবং চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকদের মধ্য থেকে এ দায়িত্ব দেওয়ার কথা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোনো কলেজের অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠতম ১০ জন শিক্ষকের তালিকা থেকে গভর্নিং বডির সুপারিশক্রমে তিনজনের একটি প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কলেজে নিজ পদে যোগদানের তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা গণনা করতে হবে।
কলেজ সূত্রের দাবি, শিক্ষক জ্যেষ্ঠতার তালিকায় সাদিকা বেগমের অবস্থান অষ্টম। তাঁর আগে তালিকায় রয়েছেন সহকারী অধ্যাপক কাজী মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, মাহমুদুল হাসান, মোহাম্মদ মুখলেছুর রহমান, মো. কামরুজ্জামান ও মো. আবদুল আলীমসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও সাদিকা বেগমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জারিকৃত বিধিবিধান এবং বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলি রেগুলেশন (সংশোধিত), ২০১৯ অনুসরণ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক। তাঁদের মতে, নির্ধারিত জ্যেষ্ঠতার তালিকা উপেক্ষা করে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় কলেজের কয়েকজন বঞ্চিত শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা আদেশটি পুনর্বিবেচনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাদিকা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বাংলা/এমএস