মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

ফুটওভার ব্রিজ ও অবৈধ পার্কিং বন্ধের আশ্বাসে সীতাকুণ্ডে অবরোধ প্রত্যাহার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ছয় ঘণ্টা ধরে চলা মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, অবৈধ লরি পার্কিং বন্ধ, দুর্ঘটনায় জড়িত চালককে গ্রেপ্তার এবং নিহত ছাত্রীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।

এর আগে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় লরির ধাক্কায় একটি বাস উল্টে গেলে সেটির নিচে চাপা পড়ে নিহত হন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত। এ ঘটনায় রাজিয়া নামের আরেক শিক্ষার্থী আহত হন।

দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ব্যাহত হয় রেল চলাচলও।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহত শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ঘটনাস্থলে যান সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তবে শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতি দাবি করলে পরে সেখানে যান তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষকরা।

এ সময় মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত ব্যক্তিরা অংশ নেন। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন জেলা প্রশাসক।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, দ্রুততম সময়ে ব্রিজ নির্মাণের জন্য মঙ্গলবারই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

অবৈধ লরি পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কোনো অবৈধ পার্কিং এখানে থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় রাখতে দেব না।’ এ ছাড়া রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদের আশ্বাস দেন তিনি।

দুর্ঘটনায় জড়িত লরিচালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ সুপারের আশ্বাসের কথাও জানান জেলা প্রশাসক। নিহতের পরিবারের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী লরির মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা করা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করা।

দীর্ঘ সময়ের অবরোধে অ্যাম্বুলেন্সসহ অসংখ্য যানবাহন আটকে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনাদের যে দাবিগুলো আছে, সেগুলো আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পূরণ করব।’

পরে জেলা প্রশাসকের আশ্বাস এবং প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর