মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুরে যানজট ও শব্দদূষণ কমাতে মাসব্যাপী পরিকল্পনা, বাফার জোনে রিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

গাজীপুর মহানগরের সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জুলাই চত্বর এলাকা যানজট ও শব্দদূষণমুক্ত করতে মাসব্যাপী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী নেওয়া এ পরিকল্পনার আওতায় নির্দিষ্ট সড়ককে ‘বাফার জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

এ উপলক্ষে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া। সভায় সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট নিরসন ও শব্দদূষণ কমাতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

বাফার জোনে নির্দিষ্ট সময়ে রিকশা চলাচল বন্ধ

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্র ও শনিবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারিত বাফার জোনে ব্যাটারিচালিত ও প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচল করতে পারবে না।

সড়কটিতে প্রবেশের ১৩টি নির্ধারিত সংযোগ সড়কের মুখে পুলিশ সদস্য, সিটি করপোরেশনের কর্মী, বিএনসিসি, স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ব্যারিকেড স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে এসব যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিআরটিএ গাজীপুর ডিউটি রোস্টারের মাধ্যমে এ কার্যক্রম সমন্বয় করবে।

রঙভিত্তিক চলবে অনুমোদিত অটো

বাফার জোনে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে সপ্তাহভিত্তিক রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে শুধু পাঁচ আসনবিশিষ্ট অনুমোদিত অটো চলাচল করতে পারবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাসের প্রথম সপ্তাহে সবুজ, দ্বিতীয় সপ্তাহে হলুদ, তৃতীয় সপ্তাহে পিঙ্ক এবং চতুর্থ সপ্তাহে লাল রঙের অটো চলবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রতি সপ্তাহের জন্য পৃথকভাবে ১০৫টি করে অটো অনুমোদন করবে। নির্ধারিত সপ্তাহে একটি রঙের অটো বাফার জোনে চলাচল করলে অন্য তিন রঙের অটো ওই সড়কের বাইরে থাকবে।

অটোর রঙ নকল ও অননুমোদিত চলাচল ঠেকাতে প্রতিটি অনুমোদিত অটোর গায়ে কিউআর কোড সংযুক্ত করবে সিটি করপোরেশন।

হর্ন বাজানো ও যেখানে-সেখানে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ

বাফার জোনে চলাচলকারী অনুমোদিত অটোর চালকেরা কোনো ধরনের হর্ন বাজাতে পারবেন না। নির্ধারিত রুটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া ১৩টি নির্ধারিত সংযোগ সড়কের মোড় ছাড়া অন্য কোথাও অটো দাঁড় করানো যাবে না।

১৩টি সংযোগ সড়কে বিশেষ নজরদারি

কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা নির্ধারিত ১৩টি সংযোগ সড়কে অবস্থান ও চলাচল করতে পারবে। তবে বাফার জোনে প্রবেশের সংযোগমুখ থেকে ৬০ মিটার দূরত্বের মধ্যেই এসব যানবাহনকে ইউটার্ন নিতে হবে।

এ কার্যক্রম তদারকিতে পুলিশ সদস্য, সিটি করপোরেশনের কর্মী, বিএনসিসি, স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত স্থানে ব্যারিকেড স্থাপনের মাধ্যমে যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাজীপুর মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যানজট ও শব্দদূষণ কমবে। পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর