যুক্তরাজ্যের কারি ও হসপিটালিটি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) ১৯তম বার্ষিক অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠিত হয়েছে লন্ডনে। গত রোববার (১ নভেম্বর) রাতে পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথি অংশ নেন।
টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়া এ আয়োজনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হসপিটালিটি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, রেস্তোরাঁ মালিক, শেফ, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা একত্রিত হন। যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশটির মানুষের মধ্যে কারির জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়।
গালা ডিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি ছিল রন্ধনশিল্পের উৎকর্ষ, এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের অবদান এবং বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদ্যাপনের আয়োজন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টকটিভির সম্প্রচারক ইয়ান কলিন্স এবং পুরস্কারজয়ী সংবাদ উপস্থাপক ও সাংবাদিক আনিলা ধামি।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজা তৃতীয় চার্লস এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও সমর্থনবার্তা পাঠানো হয়, যা অনুষ্ঠানের স্মারক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। বাকিংহাম প্যালেস থেকে পাঠানো বার্তায় রাজা অ্যাওয়ার্ডসের প্রশংসা করেন এবং আয়োজনের সাফল্য কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানানো হয়। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও স্থানীয় কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি ব্যবসাগুলোর অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
জনসেবা, ব্যবসা ও কমিউনিটিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কেভিন বোনাভিয়া এমপি, ব্রিক লেনের উদ্যোক্তা আব্দুল জব্বার এবং মানবাধিকারকর্মী ড. নাজিয়া খানম ওবিইকে বিশেষ ‘বিসিএ অনার্স অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।
বিসিএ সভাপতি অলি খান এমবিই বলেন, “রবিবার ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একসঙ্গে দেখতে পাওয়াটা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এই অ্যাওয়ার্ডস কেবল শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই নয়, বরং আমাদের এই শিল্পকে যারা এতটা বিশেষ করে তুলেছেন—সেইসব মানুষ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদ্যাপন করারও একটি উপলক্ষ। আমাদের সকল বিজয়ীকে অভিনন্দন। তাঁদের অর্জন এই খাতকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিভারই প্রমাণ।”
মহাসচিব টিপু রহমান বলেন, “আমাদের শিল্পে যারা উচ্চমান স্থাপন করছেন, সেইসব রেস্তোরাঁ এবং মানুষকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এই অ্যাওয়ার্ডস একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রবিবারের অনুষ্ঠানটি ছিল একটি চমৎকার উদ্যাপন, যা সহকর্মীদের নিজেদের অর্জন ভাগ করে নিতে এবং যুক্তরাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি খাতের অব্যাহত অবদানকে স্বীকৃতি দিতে একত্রিত করেছে। আমরা আশা করি, এ বছরের বিজয়ীরা তাঁদের অর্জনের জন্য গর্ববোধ করবেন।”
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, সীমা মালহোত্রা এমপি, কেভিন বোনাভিয়া এমপি, রুপা হক এমপি, স্যার জেমস ক্লেভারলি এমপি, ড্যানিয়েল জেইচনার এমপি, লর্ড করণ বিলিমোরিয়া, লর্ড কোরবান হোসেন এবং লর্ড রামি রেঞ্জার সিবিই।
বিসিএর কোষাধ্যক্ষ ফয়জুল হক বলেন, “প্রতিটি সফল রেস্তোরাঁর পেছনে থাকেন একজন উদ্যোক্তা এবং একটি কর্মীদল, যারা কর্মসংস্থান তৈরি করছেন, সরবরাহকারীদের সহায়তা করছেন এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে অবদান রাখছেন। এই অ্যাওয়ার্ডস সেই কঠোর পরিশ্রম এবং আমাদের শিল্পকে সচল রাখা উদ্যোক্তা মনোভাবের ওপর আলোকপাত করে। রবিবারের গালা অনুষ্ঠানে একসঙ্গে বসে সেই অর্জনগুলো উদ্যাপন করতে পারা এবং যেসব ব্যবসার অবদান কেবল ডাইনিং রুমের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, তাদের স্বীকৃতি দিতে পারাটা ছিল বিশেষভাবে আনন্দদায়ক।”
প্রেস ও পাবলিকেশনস সেক্রেটারি নাজ ইসলাম বলেন, “ব্রিটেনে বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পকে যারা গড়ে তুলেছেন, তাঁদের মানুষ, গল্প ও ঐতিহ্যের এক যথার্থ উদ্যাপন ছিল এই সন্ধ্যা। প্রতিষ্ঠিত নামের পাশাপাশি উদীয়মান প্রতিভাদের একসঙ্গে স্বীকৃতি পেতে দেখা এবং পুরো শিল্পকে একত্রিত করে এর অর্জনগুলো উদ্যাপন করা ছিল অত্যন্ত আনন্দের। বিসিএ ৬৬ বছর ধরে এই কমিউনিটির হয়ে কাজ করছে। আমাদের বিজয়ীদের সাফল্যের কথা তুলে ধরা সেই গল্প বলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস কমিটির আহ্বায়ক ও সেলিব্রিটি শেফ আতিক রহমান বিইএম বলেন, “এটি ছিল একটি চমৎকার সন্ধ্যা। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একত্রিত করতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। এই অ্যাওয়ার্ডস আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদ্যাপন করে, ব্রিটেনে আমাদের শিল্পের অবদান তুলে ধরে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে এটি সামনে এগিয়ে নিতে অনুপ্রাণিত করে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রায় ১২ হাজার রেস্তোরাঁ মালিকের প্রতিনিধিত্ব করে।
এই বাংলা/এমএস