নেত্রকোনার দুর্গাপুরের জারিয়া ব্রিজ ও জাইঞ্জাইল এলাকায় ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য পরিবহন নিয়ে চোরাচালানের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ব্যক্তিগত ব্যবহারের কথা বলে এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয় ব্যবহার করে লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বাস, সিএনজি ও ট্রেনে করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কম্বল, প্রসাধনসামগ্রী, জিরাসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। এসব পরিবহনের ক্ষেত্রে বাস মালিক মতি মিয়ার বাসের নামও উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, এসব পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শুল্ক-কর পরিশোধ করা হচ্ছে কি না এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের অজুহাতে বাণিজ্যিক পরিমাণে পণ্য বহনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিধানকে পণ্য বাণিজ্য বা অবৈধ পরিবহনের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের আহমেদ বলেন, “ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিতে পারবে, উপজাতিদের জন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।”
তবে ওসির এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্যের কারণে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ শিথিল হয়ে পড়েছে। যদিও অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট চালান, জব্দের তথ্য বা শুল্কসংক্রান্ত নথি প্রতিবেদকের হাতে নেই।
স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের প্রশ্ন, একই জেলা ও উপজেলায় একাধিকবার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কেন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না। সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনার পরও কথিত পণ্য পরিবহন বন্ধ না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ছোট পরিসরের ব্যবসার আড়ালে বড় কোনো চক্র বিপুল অর্থের অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনা করছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, পণ্য পরিবহনের উৎস, বৈধ আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র, শুল্ক পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ব্যক্তিগত ব্যবহারের অজুহাতে বাণিজ্যিক বা অবৈধ পণ্য পরিবহনের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বৈধ আমদানি ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম স্পষ্ট করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এই বাংলা/এমএস