গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণে গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা বাড়াতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকার (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস—আইপিআর) বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিসের উদ্যোগে কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের সেমিনার কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন হিট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক (এসপিএম) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক ও কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন। পরে উপাচার্য কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে। গবেষকদের সৃজনশীলতা ও মেধার যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ভাবনের সুরক্ষা, গোপনীয়তা এবং কার্যকর প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, পেটেন্ট অর্জন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। এ কারণে গাকৃবির উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তির পেটেন্ট অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পেটেন্ট প্রক্রিয়া সহজ করতে বর্তমান সরকারও বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উপাচার্যের বক্তব্যের পর হিট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ প্রকল্পের লক্ষ্য, কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি, ফিশারিজ, বন ও পরিবেশ এবং ভেটেরিনারি মেডিসিন অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স অনুষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, উপ-প্রকল্পের সহকারী ব্যবস্থাপক (এএসপিএম) অধ্যাপক ড. ফয়েজ আহমেদ প্রধান এবং ড. মুহাম্মদ জিয়াউল হক।
প্রশিক্ষণে মেধাস্বত্বের মৌলিক ধারণা ও কৃষি উদ্ভাবনের সঙ্গে এর সম্পর্ক, গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনের গোপনীয়তা রক্ষা, গবেষণার তথ্য-উপাত্তের নৈতিক ব্যবহার এবং গবেষণাসামগ্রী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া জার্মপ্লাজম হস্তান্তর, ম্যাটেরিয়াল ট্রান্সফার অ্যাগ্রিমেন্ট (এমটিএ) এবং গবেষণাগার ও মাঠপর্যায়ের গবেষণা প্রটোকল নিয়েও বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গবেষণাসামগ্রী ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ এবং উদ্ভাবনের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
সভাপতির ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।
এই বাংলা/এমএস