বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মিরসরাইয়ে ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে জাল ভাউচার তৈরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১ শতাংশ করের অর্থে নেওয়া ৫৫টি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এ মামলাটি দায়ের করেন সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একই কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।

মামলার আসামিরা হলেন করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন নয়ন; সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার ও তাহেরা বেগম; এবং সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এসব প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের পর অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পায় দুদক। অনুসন্ধানে প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ ভাউচার জাল বলে প্রতীয়মান হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। ভাউচারে উল্লেখ করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক দুদকের অনুসন্ধানকারীদের জানিয়েছেন, সেখানে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর তাঁদের নয়।

এ ছাড়া প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে অন্য সদস্যদের অধিকাংশ স্বাক্ষরও জাল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। ১ শতাংশ করের অর্থে নেওয়া ৫৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। তাঁদের পারস্পরিক যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রকল্পের নির্দেশনা ও নীতিমালা লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং জাল ভাউচার তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়।

দুদক জানায়, অনুসন্ধানের সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, চেয়ারম্যানের চাপে দোকান থেকে সংগ্রহ করা খালি ভাউচার তিনি পূরণ করেছিলেন। তবে এ ঘটনায় তাঁর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে তদন্তকালে খতিয়ে দেখা হবে।

মামলাটি তদন্তাধীন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার আইনি নীতি প্রযোজ্য।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর