রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সিরাজদিখানে সার ডিলারশিপ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় সরকারি সার বিতরণের ডিলারশিপ পাওয়া নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কেয়াইন, বাসাইল ও রশুনিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ডিলারশিপ, ব্যবসায়িক অবকাঠামো এবং যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপ থাকলেও নির্ধারিত স্থানে সার বিক্রির দোকান কিংবা সংরক্ষণের উপযোগী গুদাম নেই।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য এবং সরকারি দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কেয়াইন ইউনিয়নে মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম মঞ্জুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ঠিকানা কুচিয়ামোড়া বলে জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি আল মুসলিম গ্রুপে কর্মরত এবং সংসদ সদস্য আবদুল্লাহর বডিগার্ড হিসেবে পরিচিত। এসব পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নামে নির্ধারিত সার বিক্রির দোকান ও গুদাম না থাকার দাবিও করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য নথি পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

বাসাইল ইউনিয়নে মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে তাঁদের দাবি, তিনি আল মুসলিম গ্রুপে কর্মরত এবং সংসদ সদস্য আবদুল্লাহর অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।

তাঁর পেশাগত পরিচয় বা প্রভাবের কারণে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। প্রতিষ্ঠানটির নামে সার বিক্রির দোকান ও সংরক্ষণের গুদাম নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ডিলারশিপের আবেদন, অনুমোদন এবং ব্যবসায়িক অবকাঠামোসংক্রান্ত নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রশুনিয়া ইউনিয়নে মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে মোহাম্মদ রনি খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগে ছাত্রলীগ, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন ব্যক্তি এবং সংসদ সদস্য আবদুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির নামে সার বিক্রির দোকান ও গুদাম না থাকার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সরকারি সার কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ। সুষ্ঠু ও নীতিমালাভিত্তিক বিতরণ নিশ্চিত করতে ডিলারদের যোগ্যতা, ব্যবসায়িক অবকাঠামো এবং বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন ও বিতরণের হিসাব যাচাই করা জরুরি।

অভিযোগকারীরা সিরাজদিখানের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে ডিলারশিপ প্রদানের প্রক্রিয়া, আবেদনপত্র, ব্যবসায়িক কাগজপত্র, দোকান ও গুদামের অস্তিত্ব এবং সার উত্তোলন-বিতরণের হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন। তদন্তের আগে এসব অভিযোগকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর