শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

উলিপুরে কাজ শেষ না করেই এডিপির কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

 

কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বরাদ্দ করা এক কোটি টাকার উন্নয়নকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছয়টি প্যাকেজের অধীনে নেওয়া ১৪টি প্রকল্পের বেশির ভাগের কাজ অসমাপ্ত থাকলেও গত ৩০ জুন প্রকল্পের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপির অর্থায়নে উলিপুর পৌরসভার উন্নয়নের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ অর্থে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, পুকুরপাড়ে প্যালাসাইডিং এবং পৌর ভবন সংস্কারসহ ১৪টি প্রকল্প নেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শুরু বা শেষ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থবছর শেষে বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কায় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পৌর ভবন মেরামত ও আসবাব সরবরাহ, পৌর সুপারমার্কেটের সামনে থেকে সালামের দোকান পর্যন্ত সিসি রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, জোনাইডাঙ্গা মৌজায় পূর্ব বাজার রেলক্রসিং থেকে আজমের মোড় পর্যন্ত সিসি ভি-ড্রেন, লাভলুর বাড়ি থেকে সুরুজ্জামান মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসিকরণ এবং নুর মোহাম্মদের বাড়ি থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত পিভিসি পাইপের ড্রেন নির্মাণ।

এ ছাড়া মাতৃমঙ্গলের সামনে থেকে নির্বাচন অফিস পর্যন্ত সিসি রাস্তা, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খেয়ারপাড় এলাকায় মামুন ও সোলেমানের বাড়ির সামনে এবং চোকদারপাড়া শাহী মসজিদ থেকে আব্দুর রহিমের বাড়ি পর্যন্ত সিসি রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। নারিকেলবাড়ী, পূর্ব নাওডাঙ্গা, হায়াৎ খাঁ ও বলদিপাড়া এলাকার বিভিন্ন পুকুরপাড়ে ইটের প্যালাসাইডিং এবং ৭১ গণকবর স্মৃতিস্তম্ভের পুকুর সংস্কারের প্রকল্পও নেওয়া হয়।

অসমাপ্ত কাজে দুর্ভোগ

প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উলিপুরের রামদাস ধনিরাম গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী মো. আফছারী আলী (৬৫) বলেন, “রাস্তাটা কাঁচা ছিল, তাও ভালো ছিল। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে ৩ ফুটের ড্রেন করে দু’পাশে ২-৩ ফুট গর্ত ফেলে রাখা হয়েছে। পুরো রাস্তা সিসি করার কথা থাকলেও ড্রেন করার পর আর কোনো খবর নেই। আগে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, রিকশা-ভ্যান চলত; এখন হেঁটে চলাচল করাই বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।”

চোকদারপাড়ার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম রকি জানান, আগে রাস্তাটি পিচঢালা ছিল। সিসি রাস্তা নির্মাণের কথা বলে ড্রেন খনন করা হলেও পরে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে মসজিদে যাতায়াতের সময় মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে মিলেছে অসমাপ্ত প্রকল্পের চিত্র

গত রোববার ও সোমবার সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, এডিপির আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে মাতৃমঙ্গল থেকে নির্বাচন অফিস পর্যন্ত সিসি রাস্তা, সুপারমার্কেটের সামনের সিসি রাস্তা এবং নুর মোহাম্মদের বাড়ির সামনের ড্রেনের কাজ আংশিক সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া দুটি ড্রেন প্রকল্পের নথিতে উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে সেগুলোর দৃশ্যমান অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

উলিপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, বৃষ্টিবাদলের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ করা সম্ভব হয়নি। ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বরাদ্দের অর্থ ফেরত যাওয়া এড়াতে ট্রেজারি থেকে পৌরসভার হিসাবে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন দ্রুত প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করা হবে।

কাজ সম্পন্ন না করে অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি তিনি।

উলিপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে চুক্তি বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর