নীলফামারীর ডিমলায় মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর এবং এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের এক কর্মী আটকের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, প্রতিমা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মন্দিরের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের দাশপাড়া (জেলেপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, দাশপাড়া এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রায় ৩২টি পরিবারের বসবাস। সেখানে মন্দিরের জমির মালিকানা নিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাঁশের মুড়া তুলতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন (৩০) বাধা দেন। মামলাটি চলমান থাকায় সেখানে কোনো কাজ না করার কথা জানান তিনি। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী তাঁকে বাড়িতে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ওসি জানান, ছেলেকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে গেলে সাদ্দামের বাবাকেও আটকে রাখা হয়। পরে তাঁর মা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি শান্ত করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ নাকচ করে ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থলে কোনো প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। সেখানে কোনো প্রতিমাও ছিল না।” তবে ওই স্থানে মাঝেমধ্যে পূজা-অর্চনা করা হয় বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজকুমার দাশ (৪০) জানান, মন্দিরের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে শুক্রবার মন্দিরের আশপাশ পরিষ্কার করা ও বাঁশের মুড়া সরানোর কাজ চলছিল। এ সময় সাদ্দাম হোসেন বাধা দিলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাঁরা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনায় উপজেলা ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁর দাবি, সাদ্দাম হোসেন ছাত্রশিবিরের কোনো পর্যায়ের জনশক্তি নন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ ঘটনার সঙ্গে সংগঠনটির নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই বাংলা/এমএস