বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীতে মদের বারে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

রাজশাহী প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন পরিচালিত একটি মদের বারে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে মদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ ও মদ্যপান, ক্রেতাদের অনুমতিপত্র যাচাই এবং নির্ধারিত সময়ের পরও মদ বিক্রির অভিযোগ ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসা একটি ভিডিওতে বারের ভেতরে কয়েকজন তরুণকে মদ্যপান করতে দেখা গেছে। তবে ভিডিওতে তাঁদের প্রকৃত বয়স ও অনুমতিপত্রের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজশাহীর অনুমোদিত মদের বার হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমতিপত্র যাচাইয়ে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, এখানে যে কেউ মদ কিনতে ও পান করতে পারছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ১০ ধারায় লাইসেন্স, পারমিট বা পাস ছাড়া অ্যালকোহল উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। একই আইনের ১১ ধারায় পারমিট ছাড়া অ্যালকোহল পান না করার বিধান রয়েছে।

তবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বারে বিদেশি নাগরিক ও পারমিটধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্ধারিত শর্তে বসে অ্যালকোহল পানের সুযোগ রয়েছে। মুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শর্তে অনুমতি দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

এ ছাড়া অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী, অ্যালকোহল পানের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়সসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। বিধিমালায় ২১ বছরের কম বয়সীদের অ্যালকোহল পানের অনুমতি না দেওয়ার বিধান রয়েছে। তাই বারে তরুণদের মদ্যপানের ভিডিও সামনে আসার পর তাঁদের বয়স, অনুমতিপত্র এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মানার বিষয়গুলো যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

বারের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও গোপনে মদ বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, বার বন্ধ হওয়ার পর অতিরিক্ত দাম নিয়ে ক্রেতাদের কাছে মদ সরবরাহ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অল্পবয়সীদের মদ্যপানের সুযোগ তৈরি হলে তা তাদের শিক্ষা, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নেশার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে কেউ কেউ চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা করছেন। পরিবারের কাছে নেশার টাকা চেয়ে না পেলে বিরোধ ও নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে বলে তাঁদের দাবি।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বারের লাইসেন্স, বিক্রির নির্ধারিত সময়, ক্রেতাদের অনুমতিপত্র যাচাই এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ওসি মইন বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আপনাদের কাছে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে আমাদের জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারের ম্যানেজার রাজ্জাকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর