শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এলজিইডিতে জ্যেষ্ঠতা তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলীদের জ্যেষ্ঠতা তালিকা সংশোধন ও সাম্প্রতিক পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রকৌশলীর দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত কিছু কর্মকর্তার জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে পূর্ববর্তী তারিখ ব্যবহার করে সরাসরি রাজস্ব খাতে নিয়োগ পাওয়া জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে সংশোধিত জ্যেষ্ঠতা তালিকার ভিত্তিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (গ্রেড-৪) পদে পদোন্নতি ও পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব খাতে কর্মরত কয়েকজন প্রকৌশলী পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

জ্যেষ্ঠতা তালিকা নিয়ে যে প্রশ্ন

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া ২০২৪ ও ২০২৬ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকার তুলনামূলক তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন কর্মকর্তার জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মো. আবদুল বাকীর ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের তালিকায় জ্যেষ্ঠতা গণনার তারিখ ছিল ২৮ জুলাই ২০০৪ এবং অবস্থান ছিল ১৬৮ নম্বরে। ২০২৬ সালের তালিকায় তাঁর জ্যেষ্ঠতার তারিখ ২০ আগস্ট ১৯৯৪ দেখানো হয়েছে এবং অবস্থান ২৮ নম্বরে আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই তালিকার ভিত্তিতে ২৪ সেপ্টেম্বরের পদোন্নতি প্রজ্ঞাপনে তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দিয়ে সদর দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে মো. শহিদুজ্জামান খানের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের তালিকায় জ্যেষ্ঠতার তারিখ ২৮ জুলাই ২০০৪ এবং অবস্থান ১৯৯ নম্বর ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের তালিকায় তাঁর জ্যেষ্ঠতার তারিখ ৮ মে ১৯৯৭ করা হয়েছে এবং অবস্থান ৪০ নম্বরে আনা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের বক্তব্য। পদোন্নতি প্রজ্ঞাপনে তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন এবং শৃঙ্খলা ও তদন্ত) পদে পদায়ন করা হয়েছে বলেও তারা জানান।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দাবি, এভাবে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে সরাসরি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশে রাজস্ব খাতে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করছেন।

বিধিমালা নিয়ে বিতর্ক

অভিযোগকারীরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ২০০৫ সালের বিধিমালা প্রযোজ্য। সরকারি নথি ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্যেও ওই বিধিমালার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।

তাদের দাবি, প্রকল্পে চাকরির সময়কালকে ব্যবহার করে রাজস্ব খাতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের সুযোগ আছে কি না, সেটিই বর্তমান বিরোধের মূল বিষয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও আদালতের রায়ের সঠিক ব্যাখ্যা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অন্যদিকে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত ২০১১ সালের বিধিমালাও সরকারি নথিতে বিদ্যমান। ওই বিধিমালার অধীনে জ্যেষ্ঠতা তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়া রয়েছে।

আপত্তি নিষ্পত্তির আগেই পদোন্নতির অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের আরও অভিযোগ, জ্যেষ্ঠতা তালিকা নিয়ে আপত্তি ও মতামত জানানোর সুযোগ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

তাদের দাবি, জ্যেষ্ঠতা তালিকা নিয়ে আপত্তি থাকলে তা যাচাই ও নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা প্রয়োজন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রকাশিত নোটিশেও নন-ক্যাডার জ্যেষ্ঠতা তালিকার বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপত্তি, অভিযোগ ও পরামর্শ জানানোর সুযোগ দেওয়ার নজির রয়েছে।

পদোন্নতি নিয়ে প্রকৌশলীদের ক্ষোভ

জ্যেষ্ঠতা তালিকা নিয়ে বিতর্কের প্রভাব ইতোমধ্যে এলজিইডির প্রকৌশলীদের মধ্যে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, সরাসরি রাজস্ব খাতে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা ক্ষুণ্ন হলে ভবিষ্যৎ পদোন্নতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে কোনো ধরনের অসঙ্গতি হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথি, নিয়োগের ধরন, নিয়মিতকরণের তারিখ এবং আদালতের নির্দেশনার আলোকে জ্যেষ্ঠতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের আরও দাবি, ২৪ সেপ্টেম্বরের পদোন্নতি ও পদায়ন প্রজ্ঞাপন এবং এর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত জ্যেষ্ঠতা তালিকা পুনরায় পরীক্ষা করা হোক। অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর