কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট প্রচারের আশঙ্কায় গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সংবাদকর্মী মো. নাঈম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) শ্রীপুর থানায় করা জিডিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, হয়রানি ও সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। জিডি নম্বর ১২৫৯ এবং ট্র্যাকিং নম্বর OW5EOG।
জিডি সূত্রে জানা যায়, ধলাদিয়া গ্রামের মৃত সামসুদ্দিনের ছেলে জহিরুল ইসলামের প্ররোচনায় ‘মাওনা Anti Corruption BD’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার মতো বক্তব্য ও কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নাঈম।
জিডিতে তিনি দাবি করেন, এসব কনটেন্টের কারণে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নামজারি, টিসিবি কার্ড, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট ও ভোটার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধ এবং মামলা, হামলা, জিডি কিংবা বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগের কথাও এতে বলা হয়েছে।
জিডিতে ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও আইনজীবী তাহরিম ছাফফাতের করা অভিযোগ এবং সংবাদকর্মী মামুন হোসেনের অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরির বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জিডিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই এসব অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সংবাদকর্মী মো. নাঈম বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার দাবি করেন।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, জিডিটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এএসআই (নিরস্ত্র) মো. মিজানুর রহমানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস