মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সার চাওয়াকে কেন্দ্র করে মামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভূরুঙ্গামারীর কৃষকেরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণকে কেন্দ্র করে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ ও মারধরের অভিযোগে করা মামলার পর কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদামতো সার চাইতে গিয়ে তাদের মামলার আসামি করা হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তার দাবি, তাকে অবরুদ্ধ ও মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকায় বিএডিসি সার ডিলার মো. আমজাদ হোসেনের মেসার্স আফি সার ঘরে সার বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ওই দিন রাতেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর গনাইয়েরকুটি মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক মো. সুলতান মোল্লা (৩৮) আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী মোছা. শিউলী বেগম। তিনি বলেন, তার স্বামী সার চাইতে গিয়েছিলেন। মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি বাড়িতে থাকছেন না। এতে জমির ফসলের দেখভাল নিয়েও পরিবারটি সমস্যায় পড়েছে।

একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কৃষক মো. আল আমিন মোল্লা (৪৭) আট দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তার দাবি, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং শুধু সার চাওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন।

আল আমিনের স্ত্রী মোছা. রওশান আরা বেগম জানান, স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে তাদের প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। কারাগার থেকে ফেরার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক মো. সুরুজ মিয়ার দাবি, সার নিয়ে কৃষকেরা বিক্ষোভ করলেও কৃষি কর্মকর্তার গায়ে কেউ হাত দেয়নি। তবে কৃষি কর্মকর্তা তাকে মারধরের অভিযোগ করেছেন।

আরেক কৃষক মো. কলিম উদ্দিন বলেন, তার ভাইসহ অনেক কৃষক গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছেন। দিনের বেলায় জমিতে কাজ করলেও রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, মামলার পর কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। অনেকেই বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আলী মোল্লাও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বাদ দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার বলেন, সার বিতরণের সময় উসকানিতে বিক্ষোভ হয়। একপর্যায়ে তাকে ও অন্য কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। যারা দোষী নন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। উপজেলা প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর