রাজধানীর মিরপুরের কল্যাণপুরে অনুমোদিত নকশা না মেনে একটি ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজউকের পক্ষ থেকে দুই দফা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি।
অভিযোগের কেন্দ্রস্থল রাজউকের মহাখালী জোনাল অফিস-৩/১-এর আওতাধীন কল্যাণপুরের ৩৩/৪ নম্বর হোল্ডিং, ১১ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনুমোদিত নকশার সঙ্গে ভবনটির নির্মাণকাজে বিভিন্ন ধরনের বিচ্যুতি রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ভবনের চারপাশে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জায়গা না রেখে নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণশ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য স্থাপিত সুরক্ষা বেষ্টনী বা সেফটি নেটও পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন নয় বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির নির্মাণকাজের বিষয়ে রাজউকের অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ ও ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন ছিল। তাদের দাবি, অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নির্মাণকাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, ভবনটির অষ্টম তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণকাজ বন্ধে রাজউকের পক্ষ থেকে দুই দফা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও এরপরও কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজউক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে ভবনটির কাজ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভবনটির মালিক বা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজউকের অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ ও ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের বক্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনটির অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণকাজ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে ভবনটির নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা ও বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এই বাংলা/এমএস