ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এক যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের মুরাদ ব্যাপারীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।
নিহত হাবি মাতুব্বর ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালপাশা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার জন্য মুরাদ ব্যাপারী ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাড়ি জমান হাবি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে ওমান, সৌদি আরব, কুয়েত ও মিসর হয়ে হাবি মাতুব্বরকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি ‘গেম ঘর’ বা কথিত টর্চার সেলে রাখা হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে হাবিসহ অন্য বাংলাদেশিদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।
পরিবারের অভিযোগ, হাবিকে লিবিয়ায় নেওয়ার জন্য মুরাদ ব্যাপারী, আসলাম ও মনিরের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী হাবি লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তার পরিবার মুরাদকে পুরো ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করে।
নিহতের স্ত্রী তাসলিমা অভিযোগ করেন, ২০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও তার স্বামীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। পরে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হলে স্বামীর জীবন বাঁচাতে তারা ওই টাকা দিতে বাধ্য হন।
তাসলিমার দাবি, মুরাদের সহযোগী হিসেবে তানিয়া, বকুল ও আসলাম তার বাবার বাড়ি থেকে ওই টাকা নিয়ে যান। সব মিলিয়ে ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও হাবি মাতুব্বরকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে লিবিয়াতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবারের আরও দাবি, হাবির মৃত্যুর পর সেখানে থাকা অন্য বাংলাদেশিরা নিজেদের জীবন বাঁচাতে কথিত ওই স্থান থেকে পালিয়ে যান।
নিহতের স্ত্রী তাসলিমা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মুরাদ ব্যাপারীসহ তার সহযোগীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এই বাংলা/এমএস