শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্যাকেটজাত খাবারে এফওপিএল বাস্তবায়নের দাবিতে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বির পরিমাণ সম্পর্কে ভোক্তাদের সহজবোধ্য তথ্য দিতে ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) প্রবিধান দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভয়েস ফর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং ডিবেট ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’-এ এ দাবি জানানো হয়। ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি যৌথভাবে দিনব্যাপী এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

প্রতিযোগিতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস, আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিতর্কে শিক্ষার্থীরা প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বি গ্রহণের স্বাস্থ্যঝুঁকি, ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার, স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং কার্যকর খাদ্যনীতি প্রণয়নে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে যুক্তি ও তথ্য উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এফওপিএল নিয়ে নীতিগত উদ্যোগ ও প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও দ্রুত কার্যকর প্রবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। একটি কার্যকর এফওপিএল ব্যবস্থা ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদকদের স্বাস্থ্যকর পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করতে পারে এবং দেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্যপরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

আয়োজকেরা জানান, তরুণদের খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান বাড়ানো, জনস্বাস্থ্য বিষয়ে অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমের মনোযোগ তৈরি এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে তরুণদের মতামত তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজে তথ্যভিত্তিক জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিতর্কের মতো উদ্যোগ তরুণদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সামাজিক বিষয়ে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তার কাছে যথাযথ তথ্য পৌঁছে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবারের তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের জানার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং এফওপিএল প্রবিধান দ্রুত প্রণয়নের পক্ষে জনমত ও জনচাহিদা তৈরিতে তরুণরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। দ্রুত কার্যকর এফওপিএল প্রবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নই এখন অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (আইন ও নীতি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. সাজিদ হাসান। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর