সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার পর তীব্র অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়া গেছে। হামলার পরপরই নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিমানবন্দরটিতে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা ও অচলাবস্থা জারি করা হয়েছে। এর ফলে অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল এবং সময়সূচীতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের উত্তর অংশে অবস্থিত একটি কার্গো ভবন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর অন্তত দুটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। উপগ্রহ চিত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে বিমানবন্দরের কাছেই বিশালকায় আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে।
এই সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সানার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো সৌদি সামরিক বা কৌশলগত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার পূর্ণ বৈধ অধিকার ইয়েমেনের রয়েছে। সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি জোটের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অবরোধ প্রত্যাহার এবং সানা বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার যে দাবি ইয়েমেন জানিয়ে আসছিল, তা উপেক্ষা করে সৌদি আক্রমণ অব্যাহত রাখায় এই পাল্টা অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে সানার সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
এর আগে রিয়াদে বছরের প্রথম জরুরি আকাশ হামলার সাইরেন ও সতর্কতা জারি করা হয়। গভীর রাতে প্রায় তিনটার দিকে জারি করা সেই সতর্কবার্তায় রিয়াদবাসীকে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকির বিষয়ে সচেতন করে নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ওই সতর্কবার্তা জারির অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজধানীতে দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। যদিও পরবর্তী সময়ে সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি থেকে সেই জরুরি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়, তবে ক্ষয়ক্ষতি ও হামলার উৎস নিয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো সুস্পষ্ট বিবৃতি পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ফুটেজে দেখা গেছে, অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে শহরের উপর দিয়ে অতিক্রম করছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সীমান্ত ও যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতেও সংঘাতের উত্তাপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর একটি প্রকৌশল যান লক্ষ্য করে শক্তিশালী আইইডি বা বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, যাতে দুই ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে তেল আবিব। সীমান্ত এলাকায় আকাশপথে হামলা অব্যাহত রেখে ওয়াদি আল-সালুকি অঞ্চল লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই সময়ে অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের মধ্যভাগে অবস্থিত মাগাজি শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলে স্থলযান থেকে নির্বিচার গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। আজ ভোরে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো পৃথক হামলায় এক শিশুসহ তিন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে এক নতুন পদক্ষেপে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন।
সূত্র: আল মায়াদিন