দুই মাস ৯ দিন না খেয়ে ছিল ধলাপাহাড়, ডুলাহাজারায় গিয়ে খেল মুরগি
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশকালঃ
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে উদ্ধার করা আলোচিত কুমির ধলাপাহাড় এখন কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে। খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকার সময় টানা দুই মাস ৯ দিন কোনো খাবার না খেলেও নতুন পরিবেশে গিয়ে জীবিত মুরগি খেয়ে স্বাভাবিক আচরণের জানান দিয়েছে কুমিরটি।
বন অধিদপ্তরের বিশেষ অনুমোদনে গত ১২ আগস্ট ধলাপাহাড়কে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হয়। প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী কুমিরটির দৈর্ঘ্য সাত থেকে আট ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি।
এর আগে গত ৩ জুন খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থানকালে দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়ায় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে চিকিৎসক ও বন কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণে কুমিরটির শারীরিক অবস্থায় বড় কোনো অবনতি দেখা যায়নি।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, কুমির শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী হওয়ায় শরীরে সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়াও বেঁচে থাকতে পারে। পরিচিত পরিবেশ পরিবর্তন এবং বন্দিদশার চাপের কারণে ধলাপাহাড় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
ধলাপাহাড়কে স্থানান্তরের পেছনে মূল কারণ ছিল জননিরাপত্তা। গত ১ জুন মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নামা আট বছর বয়সী এক শিশুকে কুমিরটি আক্রমণ করে হত্যা করে। এর আগে একটি কুকুরকেও আক্রমণ করে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কুমিরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ।
খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুমিরটির শারীরিক পরীক্ষা করেন চিকিৎসক ডা. জুলকারনাইন। পরীক্ষায় তার স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য অবনতি পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে নেওয়ার পরই ধলাপাহাড়ের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, সেখানে পৌঁছানোর পরের দিনই কুমিরটি একটি জীবিত মুরগি খেয়েছে। এতে তার স্বাভাবিক ক্ষুধা ও আচরণ ফিরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী সেখানে সপ্তাহে একদিন কুমিরকে খাবার দেওয়া হয়। নতুন পরিবেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে ধলাপাহাড়ের আচরণ ও শারীরিক অবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কুমিরগুলোর মধ্যে ধলাপাহাড়ই বর্তমানে একমাত্র জীবিত সদস্য। ফলে তার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।
বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ধলাপাহাড়কে নিরাপদ পরিবেশে স্থানান্তর করায় একদিকে যেমন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে কুমিরটিরও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। নতুন পরিবেশে তার খাবার গ্রহণ ও স্বাভাবিক আচরণে ফিরে আসা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ শাহজাহান খান,
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ১২, পুরানা পল্টন (এল মল্লিক কমপ্লেক্স, ৫ম তলা) ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও আর এস প্রিন্টিং প্রেস ৯২, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।