শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নগরকান্দায় ডাঙ্গী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৮ নম্বর ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিজিডি কার্ডের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী এসব অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে কাজী আবুল কালাম ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদেও রয়েছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়নে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে। কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। আবার কিছু প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের নগরকান্দা উপজেলা শাখার ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্যের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, ৮ নম্বর ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে ১০ লাখ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা উত্তোলন করা হয়। তবে ওই অর্থের বিপরীতে ইউনিয়নে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নকাজ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

এ ছাড়া বিজিডি কার্ডের চাল বিতরণ নিয়েও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্ডধারীদের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগও করেছেন তার।

তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চেয়ারম্যানের প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে তারা বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে পারেননি। সরকার পরিবর্তনের পরও চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন বলে তাদের অভিযোগ।

তারা আরও বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামের আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নিজ এলাকা ও ফরিদপুর জেলা শহরে বহুতল ভবনসহ তার বিভিন্ন সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, ডাঙ্গী ইউনিয়নের গত কয়েক বছরের উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ, বিজিডি কার্ডের চাল বিতরণ এবং চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন, “টাকা অ্যাকাউন্টে রয়েছে। কাজ করা হবে। চাল ওজনে দুই কেজি কম, ২৮ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। যাদের নামে কার্ড রয়েছে, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই দেওয়া হয়েছে।”

এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ডাঙ্গী ইউনিয়নের গত কয়েক বছরের উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ এবং ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর