মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিমলায় পাম্পে গ্রাহককে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে হামলার অভিযোগ, ফিলিং স্টেশন বন্ধ

ডিমলা (নীলফামারি) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলায় ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রাহককে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পাম্প মালিকের বিরুদ্ধে। এতে মাহবুবুর রহমান (২৭) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে উপজেলার মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনটির কার্যক্রম ও জ্বালানি তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই ওই ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, রাত ১২টার পর নতুন দামে তেল বিক্রির প্রস্তুতির কারণে এর আগে পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।

গ্রাহকদের দাবি, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তারা আগের নির্ধারিত মূল্যে তেল দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় পাম্পের মালিক মো. শাহ আলমের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি লোহার অ্যাঙ্গেল নিয়ে গ্রাহকদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে কেমিস্ট আব্দুল কাদের ও মাহবুবুর রহমান আহত হন।

খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ডিমলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিলিং সেন্টারটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. শাহ আলম। তিনি দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানে পূর্বের দামে কেনা ১০ হাজার ৪৯৭ লিটার পেট্রোল, ১০ হাজার ৩৮০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১১ হাজার লিটার ডিজেল মজুত রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। তাঁর দাবি, পাম্পের কর্মচারীদের ওপরই আগে হামলা চালানো হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়