আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকির কারণে সরকারকে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাজিমুর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং সংকটটি প্রতিদিন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প ছিল না বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানি করা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ এ পরিস্থিতির বাস্তবতা বুঝতে পারবেন।
একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে দেশে কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাজিমুর রহমান বলেন, গুজব, অপপ্রচার ও উসকানি ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে কেউ যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস ও নাশকতার মাধ্যমে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের যেকোনো চেষ্টা মোকাবিলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাজিমুর রহমান বলেন, জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনসম্মতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের সজাগ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মিজানুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য এম এ সবুর, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ হোসেন, ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুর আলমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে সন্ত্রাস, নাশকতা ও দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, সরকার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। নতুন দামে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ও পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস