ফরিদপুরের নগরকান্দায় প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে তার অনুপস্থিতিতে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বাবা ও স্থানীয় নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মওলবী মাওলানা মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মারুফা বেগমের বাবা লুকমান শেখ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের দেলবাড়িয়া গ্রামের মন্নু শেখের ছেলে সোহাগ শেখের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে লস্করদিয়া ইউনিয়নের জুঙ্গুরদী গ্রামের লুকমান শেখের মেয়ে মারুফা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের প্রায় তিন বছর পর সোহাগ শেখ সৌদি আরবে যান।
লুকমান শেখের অভিযোগ, সোহাগ শেখ বিদেশে অবস্থানকালে গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে তার মেয়েকে তালাক দেওয়া হয়। এ সময় সোহাগ দেশে না থাকলেও তার বাবা মন্নু শেখের মাধ্যমে নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মওলবী মাওলানা মাহাবুবুর রহমান তালাকের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাকনামার কপি পাওয়ার পর গত ২০ আগস্ট ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন লুকমান শেখ। পাশাপাশি এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
লুকমান শেখ বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে আমার মেয়ের সঙ্গে সোহাগের বিয়ে দিয়েছি। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় সাধ্যমতো সোনা-গহনা ও আসবাবপত্র দিয়েছি। বিয়ের পর জামাই ইতালি যাবে বলেও তাকে টাকা দিয়েছিলাম। পরে সে ইতালি না গিয়ে সৌদি আরব যায়। সে বিদেশে থাকার সময় তার বাবা ও কাজীর যোগসাজশে আমার মেয়েকে তালাক দেওয়া হয়েছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
এদিকে গত ২১ সেপ্টেম্বর সোহাগ শেখ সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন বলে জানা গেছে। স্বামী বিদেশে থাকা অবস্থায় তার বাবা কীভাবে তালাকের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তালাকের আইনগত বৈধতা এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারের ভূমিকার বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়।
অভিযোগের বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মওলবী মাওলানা মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি স্কুলে আছি। একটু পর বের হব। আজ ব্যস্ত আছি, কাল দেখা করব।” পরে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারের জন্য নির্ধারিত অফিস না থাকায় তিনি নগরকান্দা পৌরসভা এলাকায় নিজ বাড়িতে বসে বিয়ে ও নিকাহসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পাশাপাশি তিনি পোড়াদিয়া এস এ খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন বলেও স্থানীয়রা জানান। এতে ইউনিয়নের বাসিন্দাদের বিয়ে ও নিকাহসংক্রান্ত কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, এর আগেও কাজী মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সালিস-বৈঠক হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সোহাগ শেখের বাবা মন্নু শেখ বলেন, “ছেলের বউ অনেক খারাপ। এত খারাপ, তা বলে বোঝানো যাবে না।” ছেলে বিদেশে থাকা অবস্থায় তালাক দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা না বলে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে চলে যান।
ঘটনাটি নিয়ে অভিযোগকারী পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারের ভূমিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
এই বাংলা/এমএস