নাটোরের নলডাঙ্গায় বসতবাড়ির জমি দখলের চেষ্টা, প্রায় পাঁচ লাখ টাকার গাছ কাটাসহ হামলা ও হুমকির অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক কিশোরী।
অভিযোগকারী মোছা. মহুয়া ফারিহা রোজা (১৬) নলডাঙ্গা থানায় এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নলডাঙ্গা থানার চেউখালী মৌজার আরএস ৮২৭ ও ৮১৭ নম্বর দাগে ২৩ শতাংশ জমি মহুয়া ফারিহা রোজা ও তার দুই বোনের নামে দলিলভুক্ত। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ও বাঁশঝাড় ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে মো. বিদ্যুৎ (৪২), মোছা. শেফালী (৫৫), মোছা. চামেলী (৫০), চঞ্চল (২৮), মো. মিজানুর রহমান (২৬)সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা বাঁশঝাড় থেকে প্রায় ১৫০টি বাঁশ, সাতটি আমগাছ, একটি আমড়াগাছসহ বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
গাছ কাটতে বাধা দিলে অভিযোগকারীর চাচাতো ভাই মো. মেহেদী হাসানকে (১৮) বিদ্যুৎ চড়-থাপ্পড় মারেন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফের হামলার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসেন এবং গালিগালাজ করেন। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে বিদ্যুৎ পুলিশকে নিয়েও কটূক্তি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় কামাল, আঙ্গুরী বেগম ও লাভলী বেগমসহ কয়েকজন এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশি বৈঠক করা হয়েছিল। তবে সেখানে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিদ্যুৎ বলেন, ‘এটি আমার মামার বাড়ি। আমার মা তাদের কাছ থেকে তিন শতক জমি পাবেন। সেই সূত্রে আমি আমার বাঁশ কাটতে গিয়েছিলাম। কাউকে কোনো হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়নি।’
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বাংলা/এমএস