বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুধকুমার নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারাচ্ছেন বাসিন্দারা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদীর তীব্র ভাঙনে বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় জিও ব্যাগ ফেলেও ভাঙন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীভাঙনে বারবার বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত এক বছরে জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বাণিয়াপাড়া গ্রামে নদীভাঙনে তিন শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। গত ১৫ দিনে আরও সাতটি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীতীরবর্তী আরও প্রায় ৫০টি বাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাশেদুল ইসলাম মাহাবুব, মো. আহাদ হোসেন, মো. বাদশা মিয়াসহ অনেকে বলেন, মুহূর্তের মধ্যে নদীর পাড় ধসে বাড়িঘর বিলীন হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে অনেককে বাড়িঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে হচ্ছে। ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ যথাযথ না হওয়ায় ভাঙন আবারও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও অনেক বাড়িঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরেক বাসিন্দা মো. শাহা আলম বলেন, ‘‘আমার বাড়িঘর ভেঙে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব বিপদে আছি। এখনো স্থায়ীভাবে থাকার জায়গা পাইনি। অন্য জায়গায় ঘর করে আছি। ধারদেনা করে ঘর সরাতে হয়েছে।’’

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. লেবু মিয়া বলেন, বারবার বাড়িঘর হারিয়ে নদীভাঙনকবলিত পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। নতুন করে জায়গা কেনা, বাড়িঘর নির্মাণ, নলকূপ ও ল্যাট্রিন স্থাপনে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু হতদরিদ্র পরিবারগুলো পর্যাপ্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলমান রয়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষার জন্য একটি ডিপিপি প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। ডিপিপির আওতায় কাজ বাস্তবায়িত হলে বাণিয়াপাড়ায় নদীভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর