শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কুড়িগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো, স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি ১০ গ্রামের মানুষের

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

 

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের খাজার ঘাটে জরাজীর্ণ কাঠের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ। দীর্ঘদিনেও সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পর খাজার ঘাটের কাঠের সেতুটি মেরামতের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের অর্থ ব্যয় হলেও সেতুটির কার্যকর সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এই পারাপারের পথ ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল আলিম অভিযোগ করে বলেন, সেতুটির নিম্নমানের মেরামতকাজের বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তারা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে।

কোদালকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খাজার ঘাটে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। বাধ্য হয়ে কখনো সরকারি সহায়তায়, আবার কখনো ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাঠের সেতু নির্মাণ করে ইউনিয়নের মানুষকে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে হচ্ছে।

অটোরিকশাচালক মো. সোহেল মিয়া জানান, যাত্রী নিয়ে সেতুতে উঠলে গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে খালি অটোরিকশা পার করতে হয়। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে তিনি ভয় পান।

স্থানীয় পথচারী মো. সুরমান আলী ও মো. পাপু মিয়া বলেন, খাজার ঘাটের কাঠের সেতুটি কোদালকাটির মানুষের জন্য যেন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের চর সাজাই গ্রামের বাসিন্দা মো. আমিনুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন নানা কাজে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় দ্রুত সেতুটির স্থায়ী সমাধান জরুরি।

এলাকাবাসীর দাবি, খাজার ঘাটে দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি মেরামতের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে চর রাজিবপুর উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ কুমার সাহা বলেন, খাজার ঘাটে স্থায়ী সেতু নির্মাণের বিষয়ে তারা অনেকটাই আশাবাদী। আগামীতে সেতুটি নির্মিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর