কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চরে ধরলা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র সরে যাচ্ছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ অবস্থায় নদীভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ধরলা নদীর ভাঙনে স্বামীর ভিটেমাটি হারিয়েছেন জগমনের চরের বাসিন্দা মোছাঃ মজিরন বেওয়া (৭০)। স্বামী-সন্তানহীন এই বৃদ্ধা বর্তমানে ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। নদীভাঙনে ভাইয়ের বাড়িটিও হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।
মজিরন বেওয়া বলেন, ‘আমার স্বামী-সন্তান নাই। ভাইয়ের বাড়িত আছি। এই বাড়িটাও যদি ধরলার পেটোত যায়, এই বয়েসে আমি যামো কোনঠে? তোমার গুল্যার কাছোত অনুরোধ, নদীটা হামার বান্দি দেও।’
জগমনের চরের বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ধরলা নদীর ভাঙনে তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। এ বছর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও তীব্র হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ কাশেম আলী বলেন, ধরলার ভাঙনে এরই মধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এখন ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে এলাকার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডশিপ স্কুল, একটি মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্কুলটি নদীগর্ভে বিলীন হলে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।
আরেক বাসিন্দা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ধরলার ভাঙনে পুরো এলাকাটি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে, কৃষকেরা হারাচ্ছেন ফসলি জমি। তাদের ভাষ্য, তারা ত্রাণের চেয়ে নদীভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ চান।
শুধু জগমনের চর নয়, নদ-নদীর পানি বাড়ায় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। রাজারহাট উপজেলার তিস্তা নদীর বুড়িরহাট, সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দুধকুমার নদের অববাহিকার বানিয়াপাড়া এবং ভোগডাঙ্গার ধরলা নদীর অববাহিকার জগমনের চরসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জেলার ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের অববাহিকায় বর্তমানে প্রায় ৭২টি পয়েন্টে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।
সূত্রটি আরও জানায়, জেলার নদ-নদীর দুই তীর মিলিয়ে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৭০ কিলোমিটার স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত। ফলে বাকি বিস্তীর্ণ জনপদ প্রতিবছরই নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
এই বাংলা/এমএস