বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, গণমাধ্যম কখনোই সরকারের শত্রু বা প্রতিপক্ষ নয়। স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন কাভার করতে আসা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাকির এইচ চৌধুরীর মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং গঠনমূলক সমালোচনা করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে কোনো সরকার উপকৃত হতে পারে না।
তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের আনুগত্য থাকবে সত্য ও জনগণের প্রতি, কোনো দল বা ক্ষমতার কেন্দ্রের প্রতি নয়। যে দেশে গণতন্ত্র থাকে না, সেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে যেমন বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরতে হবে, তেমনি অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
দেশে সংবাদপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকতার ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সংবাদপত্র নিয়মিত বেতন দেওয়া বা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের মতো মৌলিক বিষয়ও অনুসরণ করে না। এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রয়োজন।
কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, আগের সরকারের সময়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে সাংবাদিকরা যে স্বাধীনতা ভোগ করছেন, তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে শত্রু হিসেবে দেখার কারণ নেই। গণমাধ্যম সরকারের কাছে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরবে এবং ভুলত্রুটি সম্পর্কে জানাবে।
মতবিনিময় সভায় প্রফেসর সৈয়দ আজাদ, গাজী মনির আহমেদ, মোতাহার হোসেন, নুর মোহাম্মদ, এ টি এম হেলালুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, শাহ আলম, নুর আলম, সাংবাদিক রেজাউল করিম লাভলু, দীন ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব রশীদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এই বাংলা/এমএস