গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন মরকুন মৌজার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের টিএনটি মোল্লার গ্যারেজ এলাকায় অনুমোদিত প্ল্যান ও নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (গাউক) ইমারত পরিদর্শক এম এ মালেক ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য নোটিশ প্রদান করেছিলেন। তবে নোটিশ দেওয়ার পরও কীভাবে ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভবনটির মালিক হালিমের স্ত্রী নাজমা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের কাজ যে বন্ধ করছে, তার মাধ্যমেই আমরা কাজ চালু করেছি।”
তাঁর এমন বক্তব্যের পর ভবন নির্মাণের অনুমোদন, নোটিশ প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে নির্মাণকাজ পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি অনুসরণ না করে ভবন নির্মাণ করা হলে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে ভবিষ্যতে এলাকাবাসীকে নানা ধরনের জনদুর্ভোগের মুখে পড়তে হতে পারে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে গাউকের ইমারত পরিদর্শক এম এ মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাংবাদিক। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিককে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলবেন চেয়ারম্যান।”
তাঁর এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, একজন ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন কেন? তবে এ বক্তব্যের ভিত্তিতে গাউকের চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেয়ারম্যানের বক্তব্যও জানা প্রয়োজন।
সাংবাদিকের সঙ্গে এম এ মালেকের কথোপকথন এবং হুমকির ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক। প্রয়োজনে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের বৈধতা, নোটিশ প্রদান এবং নোটিশের পরও নির্মাণকাজ চালু থাকার বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইমারত পরিদর্শক এম এ মালেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এই বাংলা/এমএস