‘নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান—টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, পিরোজপুরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জহিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নাঈম মাহমুদ। দিবসের প্রতিপাদ্য ও পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হারুন-অর-রশীদ।
প্রেজেন্টেশনে তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, সাংগঠনিক কাঠামো, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে নির্ভুল পরিসংখ্যানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রব্বানী বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নীতি নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, “দেশের টেকসই উন্নয়ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-উপাত্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সংগৃহীত তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের নীতি নির্ধারণ ও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, আমন্ত্রিত অতিথি ও ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নির্ভরযোগ্য, সময়োপযোগী ও সহজলভ্য পরিসংখ্যানের বিকল্প নেই। এ সময় পরিসংখ্যানের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং জাতীয় উন্নয়নে এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দপ্তরপ্রধান, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই বাংলা/এমএস