সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

প্রতারণার শিকার ৮ শিক্ষার্থী বিশেষ ব্যবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষা দিল

নাটোর প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

ফরম পূরণে প্রতারণার শিকার নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে তাদের বাদ পড়া বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারের কাছে ফরম পূরণের জন্য টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হন আট শিক্ষার্থী। ফরম পূরণ না হওয়ায় তারা গত ৩ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। পরে সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। এরপর বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে তারা নিয়মিতভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনায় প্রথম দিনের বাদ পড়া পরীক্ষাটিও বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী সোমবার রাজশাহীর কেন্দ্রে তাদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষার্থী ইসরাত জাহানের বাবা ইমামুল হক বলেন, তাঁর মেয়ে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নিজ এলাকার কেন্দ্রেই দিয়েছে। তবে বাদ পড়া বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে রাজশাহীতে হওয়ায় তাকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে উঠতে হয়েছে। এতে কিছুটা ভোগান্তি হলেও মেয়ের পরীক্ষা দিতে পারায় তিনি আনন্দিত।

আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান বলেন, শিক্ষা বোর্ড গত বুধবার কলেজ কর্তৃপক্ষকে আট শিক্ষার্থীর বাদ পড়া পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি জানায়। এরপর পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। তারা বাদ পড়া পরীক্ষায় অংশ নিতে পারায় ভালো লাগছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানান, শুধু আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থীই নয়, বিভিন্ন কারণে রাজশাহী বিভাগের মোট ৪৬ জন শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তাদের বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যাসহ কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ওই আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে নিয়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফরম পূরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পাননি এবং পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিতে পারেননি।

পরে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। বিশেষ ব্যবস্থায় ফরম পূরণ সম্পন্ন করে ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওনকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। এরপর তারা দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ফরম পূরণ না করার অভিযোগে অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই বাংলা/এমএস
এই সম্পর্কিত আরো খবর