সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার খামারবাসা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তাঁকে বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে খামারবাসা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে শতাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষকের একটি অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। একজন শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ড তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না বলে দাবি করেন তারা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নৈতিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহারেরও দাবি জানান অভিভাবকরা।
একজন অভিভাবক বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের এই শিক্ষকের কাছে পড়াতে নিরাপদ বোধ করছি না। স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে খামারবাসা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমরা ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা ঘটনার সত্যতা যাচাই-বাছাই করছি। তদন্তে অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে যে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে সেটি আমার নয়। আমার ছবি এডিট করে ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমি এই ফেক আইডির মালিককে খুঁজে বের করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটির সঙ্গে শিক্ষকের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে না যাওয়ার কথাও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস