কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের হাতে বিসিআইসি ডিলারের গুদাম থেকে সার লুটের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে তদন্ত কমিটি। সোমবার (২৪ আগস্ট) ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়াসহ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন কমিটির সদস্যরা।
এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মো. তাইফুর রহমান মুকুলের গুদামের বেড়া ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা ২০২ বস্তা সার নিয়ে যান। পরে এখন পর্যন্ত ১০৭ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিলারপক্ষ।
ঘটনার পর রোববার রাতে ডিলার মো. তাইফুর রহমান মুকুল কৃষক মো. আব্দুল লতিফের নাম উল্লেখ করে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্থানীয় কৃষক মো. আমিনুল ইসলাম, মো. আনিছুর রহমান মোজাহিদসহ কয়েকজন জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তারা ডিলারের কাছে ঘুরেও সার পাচ্ছিলেন না। গুদামে চার কিস্তিতে মোট ১ হাজার ৩৬০ বস্তা সার থাকার কথা থাকলেও বিতরণের সময় মাত্র ৩৪০ বস্তা সার দেওয়ার কথা বলা হলে সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, ডিলার গোপনে সার বিক্রি করেছেন। জমিতে সারের প্রয়োজন থাকলেও টাকা দিয়েও সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান।
তবে ডিলার মো. তাইফুর রহমান মুকুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এক ব্যক্তির উসকানিতে তার দলবলসহ কয়েকজন কৃষক গুদামের বেড়া ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে যান। এর মধ্যে ১০৭ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সারও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় একজন কৃষকের নাম উল্লেখ করে থানায় জিডি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির সভাপতি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী, ডিলার ও কৃষকদের বক্তব্য নিচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটিও তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
এই বাংলা/এমএস