কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ভারতীয় ৫৫টি চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলোর আনুমানিক অবৈধ সিজার মূল্য ১৩ লাখ টাকা। এ ঘটনায় মো. এনামুল হক অন্তর (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের আসাদমোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে এনামুল হক অন্তরের বসতবাড়ির হাঁস-মুরগির খোঁয়াড়ে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোবাইলগুলো উদ্ধার করা হয়।
আটক এনামুল হক অন্তর উপজেলার উত্তর তিলাই বিএসসি পাড়া এলাকার মো. ময়েন আলীর ছেলে।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোবাইলের মধ্যে আইফোন, মটোরোলা, অপ্পো, রেডমি, রিয়েলমি ও ভিভোসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ব্যবহৃত মোবাইল রয়েছে।
পুলিশের দাবি, তিলাই ইউনিয়নের আসাদমোড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় চোরাই মোবাইলের অবৈধ কেনাবেচা হয়ে আসছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা সেখানে এসে এসব মোবাইল কিনে নিয়ে যেতেন। সীমান্তবর্তী ভারতের বিভিন্ন এলাকায় চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল চোরাচালান চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছিল।
পুলিশ আরও জানায়, অবৈধ ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন আইএমইআইযুক্ত এসব মোবাইল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযানে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মুনতাসির মামুন মুন, ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম, আল-আমিন ও আসাদুজ্জামানসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির অধীন ধলডাঙ্গা ক্যাম্প কমান্ডার সুবাদার মো. মতিউর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “আসাদমোড় দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল চোরাকারবারিদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। বিজিবির সহায়তায় সুপরিকল্পিতভাবে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে এসব মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এই বাংলা/এমএস