সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

সরকারি কোয়ার্টারে প্রায় ৪ বছর ভাড়া বকেয়া, দুই উপজেলায় চাকরি করছেন প্রকৌশলী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করে প্রায় চার বছর ধরে ভাড়া বকেয়া রাখার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। চিলমারী উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে ২ বছর ৪ মাসের ৮১ হাজার টাকা ভাড়া বকেয়া রেখে চলে যাওয়ার পর বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় সরকারি কোয়ার্টারে থেকেও ভাড়া পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

চিলমারী উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজুর রহমান অক্টোবর ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের ঘাঘট-০১ কোয়ার্টারে বসবাস করেন। ওই সময়ের ২ বছর ৪ মাসের বাসাভাড়া বাবদ ৮১ হাজার টাকা বকেয়া রেখে তিনি চিলমারী থেকে বদলি হয়ে যান। একাধিকবার যোগাযোগ করেও বকেয়া ভাড়া আদায় না হওয়ায় তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত ২৬ জুলাই দেওয়া ওই চিঠিতে সাত কর্মদিবসের মধ্যে বকেয়া ৮১ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় সরকারি দাবি আদায় আইন-১৯৯৩ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা দায়েরসহ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, চিলমারীর পর ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে এলজিইডি কুড়িগ্রাম কমপ্লেক্সের অফিসার্স কোয়ার্টারে তিনটি শর্তে বাসা বরাদ্দ পান ফিরোজুর রহমান। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে বাসাভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতি হলে তা নিজ দায়িত্বে পূরণ করা। তবে দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও তিনি ওই কোয়ার্টারের ভাড়াও পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান বলেন, চিলমারীতে দায়িত্ব পালনকালে অন্য একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় ভাড়া পরিশোধে বিলম্ব হয়েছে। তিনি জানান, চিলমারী উপজেলা পরিষদকে তার কাছে এসে টাকা নেওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু তারা না এসে চিঠি দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম এলজিইডি কোয়ার্টারের ভাড়া বকেয়া থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি তো এখানেই অবস্থান করছি, তাই যেকোনো সময় ভাড়া পরিশোধ করা যাবে। আমি তো চলে যাচ্ছি না। যেকোনো সময় ভাড়া পরিশোধ করব।”

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, ভাড়া বকেয়া রাখায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি সভায় থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারেননি।

অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ভাড়া বকেয়া আছে কি না, আমার জানা নেই। অ্যাকাউন্টস বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানাচ্ছি।” পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সরকারি আবাসন ব্যবহারের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ভাড়া পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকলেও একই কর্মকর্তা দুই কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় ভাড়া বকেয়া রাখার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়েও। অভিযোগ অনুযায়ী, চিলমারীতে ২ বছর ৪ মাস এবং কুড়িগ্রাম সদরে দেড় বছরের বেশি—সব মিলিয়ে প্রায় ৩ বছর ১০ মাসের ভাড়া বকেয়া রয়েছে তার।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর