মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ন

বেতাগীতে শিক্ষার্থীর নামে ফেসবুকে ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রচারের অভিযোগ

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৩৬ নম্বর ছোট মোকামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবার সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা মো. মাইনুল ইসলাম।

অভিযোগকারী মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, তার মেয়ে কোনো ভুল করলে শিক্ষক হিসেবে বিষয়টি তাকে জানানো যেত। কিন্তু তা না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেওয়ায় তার পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও লজ্জাজনক।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জানান, ঘটনার পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে মুঠোফোনে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্ট্যাটাসটি সরিয়ে নিতে বলেন। এরপর শিক্ষক স্ট্যাটাসটি মুছে দেন বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীটি বিভিন্ন সময় শ্রেণিকক্ষের নিয়মকানুন মানত না। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। পরে সেটি মুছে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ১৮ আগস্ট গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষককে সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ অবস্থায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, শিক্ষক মনিরুল ইসলামের আচরণ নিয়ে এর আগেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার খারাপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্রভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, কোনো শিক্ষার্থীর আচরণ নিয়ে শিক্ষক অসন্তুষ্ট হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবককে বিষয়টি জানানোই যথাযথ পদ্ধতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থীর পরিচয় বা পারিবারিক বিষয় তুলে ধরে মন্তব্য বা অভিযোগ প্রকাশ করলে তা ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের ওপর নেতিবাচক সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর