ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মো. ইউসুফ আলী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চরহাজীগঞ্জ গাবতলা মোড়ে আয়োজিত মানববন্ধনে সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইউসুফ আলীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে মারধর এবং জোর করে বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ানো হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে চরভদ্রাসন থানায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি ইউসুফ আলীকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাঁকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর ও জোর করে বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ানোর অভিযোগ করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়রা ইউসুফ আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে চরহাজীগঞ্জ বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে ইউসুফ আলী একটি ভিডিও বক্তব্য দিয়ে যান। ওই ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, ১ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ৫৫ মিনিটে জুলহাস তাঁকে জানান, শামীম তাঁকে ডাকছেন। পরিচিত হওয়ায় তিনি চরহাজীগঞ্জ বাজারে বশির মেম্বারের বাড়ির পাশে পদ্মা নদীর তীরে বালুর স্তূপের কাছে যান। সেখানে শামীম তাঁকে ‘সেই ঘটনা তুই প্রকাশ করলি কেন’—এমন প্রশ্ন করে মারধর শুরু করেন বলে ভিডিওতে দাবি করেন তিনি।
ভিডিও বক্তব্যে ইউসুফ আলী আরও অভিযোগ করেন, সেখানে থাকা আরও কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন এবং জোর করে ঘাস মারা ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে কোনোভাবে সেখান থেকে পালিয়ে রাস্তার পাশে পৌঁছালে ইউনুস খালাশীর ছেলে সুবাহানা খালাশী তাঁকে উদ্ধার করে চরহাজীগঞ্জ বাজারে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ইয়াসমিন ও শামীমের মায়ের নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। ওই বিরোধের জের ধরে ইউসুফ আলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইউসুফ আলী হত্যার ঘটনায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
এ সময় স্থানীয়রা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হত্যাকাণ্ডে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
এই বাংলা/এমএস