বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি, নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ির ৪৯৩ জন কলেজ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এবং ২৮৫ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৭৭৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকার শিক্ষা বৃত্তির আর্থিক মঞ্জুরি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জেলার ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১০ জন নারীর মাঝে ১০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে জেলার নয়টি উপজেলায় ৯০ জন নারীর মধ্যে মোট ৯০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সে জন্য শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রাঙামাটির ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্ম সচিব) শেখ ছালেহ আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা এবং পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খানসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উপকারভোগী নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তির অর্থের আর্থিক মঞ্জুরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত