কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নে উজ্জল মিয়া হত্যা মামলার আসামিদের হুমকির কারণে বাদীসহ নিহতের পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, মামলা তুলে নিতে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৩ মে রায়টুটি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল মিয়া ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উজ্জলসহ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় ১ জুন উজ্জল বাদী হয়ে ইটনা থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পরদিন রাত ১০টার দিকে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে উজ্জলকে একটি মসজিদের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে রফিকুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালান বলে মামলার বাদী পক্ষের অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় উজ্জলকে প্রথমে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
উজ্জলের মৃত্যুর পর তাঁর ভাগিনা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন। ২৬ জুন আদালতের নির্দেশে মামলাটি ইটনা থানায় রুজু হয়। মামলাটির নম্বর ১০(৬)২৬।
এদিকে উজ্জল নিহত হওয়ার পর তাঁর এক চাচাতো ভাইকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িতে এলাকাবাসীর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ইটনা থানায় পৃথক একটি মামলা হয়। ওই মামলাটি ২৭ জুন রুজু করা হয়।
মামলার বাদী পক্ষের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি বিরোধের মধ্যে গত ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে রফিকুল ইসলামের লোকজন মোশাররফ হোসেন ও তাঁদের স্বজনদের ওপর হামলা চালায়। এতে ১২ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
হত্যা মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় তাঁর মামা উজ্জল মারা গেছেন। মামলা তুলে নিতে রফিকুল ইসলামের লোকজন তাঁকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। এ কারণে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন।
নিহত উজ্জলের স্ত্রী বলেন, তাঁর স্বামীকে রফিকুল ইসলামের লোকজন মারধর করেছেন। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং তাঁদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিন মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) নাজমুস সাকিব বলেন, রায়টুটি ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন। এখনো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহতের পরিবার ও মামলার বাদী পক্ষের দাবি, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছেড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁরা দ্রুত নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস