বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাগড়াছড়িতে বনবিভাগের কাছে দুটি হরিণ ও একটি ভালুক হস্তান্তর করলেন প্রাণিপ্রেমী নবদ্বীপ চাকমা

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
খাগড়াছড়িতে বনবিভাগের হাতে তিনটি বন্যপ্রাণী তুলে দিলেন প্রাণিপ্রেমী নবদ্বীপ চাকমা / ছবি - এই বাংলা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

শিশুকাল থেকে পরম মমতায় লালন-পালন করা দুটি হরিণ ও একটি ভালুক স্বেচ্ছায় বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন প্রাণিপ্রেমী নবদ্বীপ চাকমা।

মঙ্গলবার বিকেলে খাগড়াছড়ি শহরের তেঁতুলতলা এলাকার নিজ বাসভবনে খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞ্রার কাছে প্রাণিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতা অনিমেষ চাকমার উদ্যোগে প্রাণিগুলো বনবিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তিনি জানান, নবদ্বীপ চাকমা রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বেড়ে উঠেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি রক্ষায় সচেতন ভূমিকা রেখে আসছেন। শিকার করা হরিণের মাংসসহ বিভিন্ন বনজ সম্পদ বিক্রি থেকে স্থানীয় দরিদ্র মানুষদের বিরত রাখতেও তিনি কাজ করেছেন।

নবদ্বীপ চাকমা বলেন, বর্তমানে তিনি প্রথম শ্রেণির একজন ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন এবং খাগড়াছড়ি শহরে বসবাস করছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে আহত বা অসহায় বন্যপ্রাণীর খবর পেলে সেগুলো উদ্ধার করে লালন-পালন করেন। বুদ্ধের বাণী ‘জীবহত্যা মহাপাপ’—এই নীতিতে বিশ্বাস রেখেই তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও জানান, হস্তান্তর করা দুটি হরিণ তিনি একেবারে ছোট বয়স থেকেই লালন-পালন করেছেন। ভালুকটি আহত অবস্থায় এবং একটি বানর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রাণিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও উপযুক্ত মাধ্যম পাচ্ছিলেন না। অবশেষে অনিমেষ চাকমার মাধ্যমে প্রাণিগুলোর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত হওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞ্রা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় নবদ্বীপ চাকমা ও অনিমেষ চাকমার মতো প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগে জড়িতদের উৎসাহিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রাণিগুলো দ্রুত সেখানে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, প্রাণিগুলো হস্তান্তরের সময় নবদ্বীপ চাকমার পরিবারের সদস্যদের চোখে জল দেখা গেলেও উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়