বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাঁঠালিয়ায় প্রতিবন্ধীর জমি দখলের অভিযোগ, আদালতে মামলা

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বলতলা গ্রামে জমি বন্ধক দেওয়ার পর তা জবরদখল করে বসবাস করার অভিযোগ উঠেছে সোলায়মান সরদার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শারীরিক প্রতিবন্ধী খোকন তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির একটি অংশ খাইখালাসি (বন্ধক) দিয়ে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর জমি ফেরত না পেয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বর্তমানে এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধী খোকন তার মালিকানাধীন খালের পাড়সংলগ্ন (রাস্তার বাইরের অংশে) দুই কাঠা জমি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে সোলায়মান সরদারের কাছে খাইখালাসি দেন। শর্ত অনুযায়ী সোলায়মান সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। তবে বন্ধকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি জমি ফেরত না দিয়ে বরং রাস্তার ভেতরের অংশে অবস্থিত খোকনের নির্মিত ঘরও দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, খোকনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সুযোগ নিয়ে সোলায়মান দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিতে অবস্থান করছেন। জমি ও ঘর ফেরত চাইতে গেলে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

উপায়ান্তর না পেয়ে খোকন আদালতে মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী খোকন বলেন, “আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ। পৈতৃক জমিটুকু দখল হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছি। আমি আমার জমি ফেরত পেতে আইন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

অভিযুক্ত সোলায়মান সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “খোকন আমাকে দুই কাঠা জমি বিক্রি করার কথা বলে দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন। এ বিষয়ে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিও রয়েছে। কিন্তু এখন দলিল করে দিচ্ছেন না। এ কারণেই আমি তার ঘরে বসবাস করছি।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত