হাইমচর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি :
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি ভবন নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)। তবে প্রকল্প গ্রহণের প্রায় ছয় বছর পার হলেও এখনো ভবনগুলো চালু হয়নি, নেই উদ্বোধনের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
প্রকল্পের কাজ পায় চট্টগ্রামভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিসিএলএমসি। কাজ শুরুর পর ২০২৩ সালে কোনো কারণ উল্লেখ না করেই প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ রেখে চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় নেতাদের লাগাতার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগ, পানি সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সরঞ্জাম স্থাপন ও জনবল নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাবে সেগুলো ব্যবহার উপযোগী করা যায়নি। ফলে নতুন ভবন থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন পুরোনো ৩১ শয্যার ভাঙাচোরা টিনশেড ভবনের সীমিত পরিসরের হাসপাতালে।
স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা জানান,চিকিৎসা নিতে এসে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়তে হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ, ঘুরে বেড়ানো কুকুর-বিড়াল, মানসিক ভারসাম্যহীন লোকজন সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্য প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও জরুরি রোগীদের চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর কিংবা অন্য জেলায় ছুটতে হচ্ছে।
অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পরীক্ষার অভাবে রোগীদের বাইরের ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। মাত্র একজন চিকিৎসক প্রতিদিন ৩০০-৪০০ জন রোগীকে দেখেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“ভবন তৈরি হয়ে আছে, কিন্তু চালু নেই। ২৭ কোটি টাকার প্রকল্প এভাবে পড়ে থাকা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে বিলম্ব হচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হতে পারে।’
এদিকে ২০২৫ সাল শেষের পথে হলেও এখনো ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালুর কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের জন্য নির্মিত এই স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এই বাংলা/এমএস
টপিক