বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

৩৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের পদোন্নতি কতদূর?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডারে পদোন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। অন্যান্য ক্যাডারের ৩৭তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ২০২৪ সালে এবং ৩৮তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে শিক্ষা ক্যাডারের ৩৭তম বিসিএসের অনেক কর্মকর্তা এখনো নবম গ্রেডের প্রভাষক পদে কর্মরত রয়েছেন। এতে একই বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা, আর্থিক সুবিধা ও পেশাগত অগ্রগতিতে বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সংকট দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালে এক দফায় ১ হাজার ৮৭০ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে ৩৭তম বিসিএসসহ যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

পদসংকটে আটকে প্রথম পদোন্নতি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক পর্যায়ে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৯ হাজার ৭৮২টি। বিপরীতে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪ হাজার ৪৫১টি। অর্থাৎ, প্রভাষক পদের তুলনায় সহকারী অধ্যাপক পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

এই ব্যবধানের কারণে অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতির নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জন করেও কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। তাঁদের মতে, নিয়মিত পদ সৃষ্টি, পদ আপগ্রেডেশন এবং বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

ডিপিসির সভা শেষ, তবু জারি হয়নি জিও

পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ২০২৬ সালের ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর ৩৭তম বিসিএসের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত পদোন্নতির সরকারি আদেশ (জিও) জারি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি আদেশ জারিতে বিলম্বের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। প্রভাষক পরিষদ ও পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, ডিপিসির সুপারিশের আলোকে যোগ্য কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতির আদেশ জারি করতে হবে। পাশাপাশি প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাবেও অনিশ্চয়তা

পদস্বল্পতা নিরসনে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি বা অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করা হলে নিয়মিত অনুমোদিত পদ না থাকলেও নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি-জট কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ আন্তঃক্যাডার বৈষম্য। একই বিসিএস ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা অন্যান্য ক্যাডারে উচ্চতর গ্রেডে দায়িত্ব পালন করলেও শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তাকে বছরের পর বছর একই পদে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর ফলে বেতন-ভাতা, পদমর্যাদা, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ পেশাগত অগ্রগতিতে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে এ ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।

স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মাউশিতে অবস্থান কর্মসূচি

পদোন্নতির সরকারি আদেশ দ্রুত জারি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনের দাবিতে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের পদোন্নতিবঞ্চিত শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

কর্মসূচি থেকে তাঁদের প্রধান দাবিগুলো হলো—

– ডিপিসির সভার আলোকে ৩৭তম বিসিএসসহ যোগ্য কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি।

– বকেয়া আর্থিক সুবিধাসহ পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

– পদস্বল্পতা নিরসনে দ্রুত সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি ও বাস্তবায়ন।

– নিয়মিত পদোন্নতির জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই কাঠামোগত সংকটের স্থায়ী সমাধান করবে। অন্যথায় পদোন্নতিবঞ্চনা ও পেশাগত হতাশা আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে সরকারি কলেজ ও সামগ্রিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মপরিবেশে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর