কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে নৌপথে ভারতীয় জিরার চালান আনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইফতেখার হায়দার ইফতি ও কৈলাগ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইফতেখার হায়দার ইফতি। আকরাম হোসেনও অভিযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার পাটলী ফেরিঘাটে একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করে স্থানীয়রা। পরে গাড়ি থেকে প্রায় ২০০ বস্তা জিরা পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের দাবি, গাড়িটি আটকের পর চালকের ফোন পেয়ে ইফতি ও আকরাম সেখানে যান এবং পরে পুলিশের মাধ্যমে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের আরও দাবি, গাড়ি আটকের পর সেখানে ভিড় করা উত্তেজিত জনতার একটি অংশ গাড়ি থেকে প্রায় ৫০ বস্তা জিরা নিয়ে যায়। পরে পুলিশ জুয়েল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে আট বস্তা জিরা উদ্ধার করে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন ধরে সিলেট ও হবিগঞ্জ এলাকা থেকে নৌপথে জিরা, চিনি ও ডালসহ ভারতীয় পণ্য পাটলী ঘাটে আনা হচ্ছে। পরে এসব পণ্য কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে ঢাকার চকবাজারে পাঠানো হচ্ছে। এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইফতি ও আকরাম জড়িত বলেও তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এসব পণ্য বৈধভাবে আমদানি করা হলে নৌপথে এনে ফেরিঘাটে খালাস করার প্রয়োজন কেন হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখানো হয়। কয়েক দিন আগে এক নারী প্রতিবাদ করায় তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ মিয়া বলেন, ঘাটের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা বললেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নিচ্ছেন না। তার দাবি, গাড়ি আটকের পর ছাত্রদলের ওই দুই নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গাড়িটি ছাড়িয়ে নেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইফতেখার হায়দার ইফতি বলেন, গাড়িতে থাকা ব্যক্তি তার পরিচিত। তবে তিনি নিজে ভারতীয় পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন—এ কারণে তিনি গাড়িটি ছাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন। জিরার বৈধ আমদানি কাগজপত্র বা এলসি ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার ধারণা নেই; পুলিশ তাকে জানিয়েছে, এলসি করা ছিল। পরে তিনি এ বিষয়ে আর কথা বলতে না চেয়ে আকরাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
আকরাম হোসেন অভিযোগের জবাবে বলেন, আওয়ামী লীগ আমলেও ওই ঘাটে ভারতীয় পণ্য খালাস হতো। এখন তারা ব্যবসা করছেন বলেই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, তারা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাবেন।
বাজিতপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বলেন, গাড়ি আটকের খবর পেয়ে ইফতেখার হায়দার ইফতি ঘটনাস্থলে যান। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরাই তাকে ফোন করে ডেকে আনেন বলে তিনি জানান। এ কারণে ঘটনার সঙ্গে ইফতির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তার ধারণা। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি জেলা ছাত্রদলকে জানিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পরে স্থানীয়দের উত্তেজনার বিষয়টি জানিয়ে পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হলে তিনি কাগজপত্র বৈধ বলে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশেই গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে যাননি বলেও জানান।
এই বাংলা/এমএস