সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই উলিপুরের খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ধান সংগ্রহে অনিয়মের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের বোরো মৌসুমে উলিপুর উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগ তদন্তে বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি কাজ করেছে বলেও জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।

স্থানীয় সূত্র ও কৃষকদের অভিযোগ, বোরো ধান সংগ্রহের সময় লটারিতে প্রকৃত কৃষকদের নাম উঠলেও একটি চক্রের মাধ্যমে তাদের পরিবর্তে গুদামে ধান সরবরাহ করা হয়েছে। এর বিনিময়ে প্রকৃত কৃষকদের হাতে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের আফতাবগঞ্জ মিয়াজীপাড়ার কৃষক মো. সফিকুল ইসলাম ও মোছা. আছমা বেগমের নাম সরকারি ধান সংগ্রহের লটারিতে উঠলেও তাদের পরিবর্তে অন্যরা গুদামে ধান সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে আফতাবগঞ্জ সরকারপাড়া গ্রামের মোছা. রুজিনা বেগম, মোছা. কেলেকভান ও মোছা. শিমু বেগমকে নিয়েও। স্থানীয়দের দাবি, তাদের প্রত্যেকের ১০ শতাংশের মতো বসতভিটার জমি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কৃষিজমি নেই। এরপরও তাদের নাম কৃষক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের মাধ্যমে গুদামে ধান সরবরাহ করা হয়েছে। বিনিময়ে তাদের ১ থেকে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ প্রকৃত চাষিরা পাচ্ছেন না। আবেদন করার পরও অনেক কৃষকের নাম লটারিতে না ওঠা এবং ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘৭-৮ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেও সরকারিভাবে ধান বিক্রি করতে পারি না। উলিপুর উপজেলার খাদ্য পরিদর্শক কার কাছ থেকে কীভাবে ধান নেন, আমরা জানি না। আবেদন করেও আমার নাম লটারিতে ওঠে না।’

চলতি মৌসুমে উলিপুর উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ২৯৪ মেট্রিক টন। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২৭১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব ধান-চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কৃষকের অংশগ্রহণ কতটা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, ধান সংগ্রহের অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘কুড়িগ্রাম সদরে খাদ্য পরিদর্শক না থাকায় মো. আশরাফুল আলমকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সপ্তাহে নতুন খাদ্য পরিদর্শক আসবেন। তখন আশরাফুল আলম আর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকবেন না।’

উলিপুরে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর